জনতার হাতে যুবক আটক

পান্না, রাজশাহী ব্যুরো :রাজশাহী জেলার বাগমারায় ধারালো অস্ত্র, মরিচের গুঁড়াসহ এক কিশোরকে জনতার হাতে আটক থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করে এবং আটক ওই কিশোরকে থানা হেপাজতে নেওয়া হয়। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বিনোদপুর মরাকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক ওই কিশোর জেলার মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সে ভাড়াটে হিসেবে এসে ধরা পড়ে। এ সময় তার কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মরিচের গুঁড়া উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে উপজেলার বিনোদপুর মরাকুড়ি গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে ১০-১২ জন প্রবেশ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বসবাস করা জায়গা প্রতিপক্ষ রেজাউল ইসলামের দাবি করে ছেড়ে দিতে বলে। এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তারা হামলার চেষ্টা করে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় এক কিশোরকে আটক ও তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মরিচের গুঁড়া পাওয়া গেছে। পরে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ডি এম জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের সদস্যরা পৌঁছেই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে লাঠিপেটা শুরু করে এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন। পরে তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানান। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শত শত নারী-পুরুষ পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে রাত ১১টার দিকে বাগমারা থানার ওসি অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় অবরুদ্ধ থাকা পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয় এবং ওই কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিনোদপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন ও রেজাউল করিমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তারা পরস্পরের চাচাতো ভাই। ওই জমিতে সম্প্রতি সাদ্দাম হোসেন পাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রেজাউল করিম জমিটি নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেন। এর মধ্যে তিনি ভাড়াটে লোকজন নিয়ে জায়গাসহ বাড়ি দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন সাদ্দাম হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমার জমিতেই বাড়ি তৈরি করেছি, বসবাসও শুরু করেছি। এখন ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে পরিবারকে উচ্ছেদ করে বাড়ি দখলের চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা প্রভাবিত হয়ে রাতে বাড়িতে ঢুকে লোকজনকে লাঠিপেটা শুরু করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ আচরণ প্রত্যাশিত নয়।

অন্যদিকে রেজাউল করিম বলেন, ‘বাড়িটি আমার, সাদ্দাম দখল করে নিয়েছে। আমি বাড়িতে থাকার জন্য বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসছিলাম। সাদ্দাম হোসেন উল্টো লোকজন নিয়ে মব তৈরি করেছে।’

স্থানীয় শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, ‘অস্ত্রসহ আটক কিশোরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকে বলেছিলাম। উল্টো পুলিশ এসে সাধারণ লোকজনকে গালিগালাজ করেছে। পুলিশের আচরণ ভালো ছিল না, এ জন্য পরিবেশ উত্তপ্ত হয়েছিল।’

হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ডি এম জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যে নির্মাণাধীন বাড়ি নিয়ে বিরোধ ছিল। রাতে একজনকে আটকে রাখা হয়েছে জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। পরে আটক কিশোরকে উদ্ধার করলেও নিয়ে আসা যাচ্ছিল না। সাদ্দাম হোসেনের লোকজন মব তৈরি করে। পরে ওসি স্যারের সহযোগিতায় উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।’ তিনি সাদা পোশাকে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘ যবককে আটকের খবর পাওয়ায় তড়িঘড়ি করে যাওয়াতে পোশাক পরা যায়নি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *