ইজারাদারদের কাছে মানুষ জিম্মি গোদাগাড়ীর খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি চরের মানুষের

পান্না, রাজশাহী ব্যুরো :রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ও আলাতুলি ইউনিয়নের মানুষ খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিতে আবারও সোচ্চার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার তারা প্রধানমন্ত্রীর বরাবর খোলা চিঠি দিয়ে খেয়াঘাটের ইজারা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।

আষাড়িয়াদহ ছাত্র-কর্মজীবী জোটের উদ্যোগে দেওয়া ওই খোলা চিঠিতে বলা হয়, নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিকাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা খেয়াঘাট। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ঘাট ইজারা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা চরের মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চরের মানুষ নিজেদের অর্থ, শ্রম ও কষ্ট দিয়ে নৌকা পরিচালনা করে এবং নিজেদের উদ্যোগেই রাস্তা নির্মাণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখে। তারপরও প্রতিদিন পারাপারের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর ও অন্যায্য।

খোলা চিঠিতে বলা হয়, চরের মানুষ এমনিতেই নদীভাঙন, বন্যা, দারিদ্র্য ও অবহেলার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত কিংবা কৃষকের ফসল পরিবহনের সময় ঘাটের টাকার কারণে মানুষকে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।

চরের মানুষের প্রশ্ন তুলে চিঠিতে বলা হয়, যেখানে আমরা নিজেরাই নৌকা দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করি, নিজেরাই রাস্তা তৈরি করি, সেখানে কেন সাধারণ মানুষকে ঘাটে টাকা দিতে হবে?

তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চর আষাড়িয়াদহ ও আলাতুলি ইউনিয়নের সকল খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিল করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত ও বিনামূল্যে পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, গত দেড় বছর ধরে চরের মানুষ ঘাটে টাকা ছাড়াই পারাপার করছে, যা তাদের কাছে ঈদের আনন্দের মতো। তবে নতুন করে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

খোলা চিঠিতে আরও বলা হয়, চরের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের এই ন্যায্য দাবির প্রতি সদয় দৃষ্টি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আষাড়িয়াদহ ছাত্র-কর্মজীবী জোটের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহীল কাফি বলেন, আমাদের চরের মানুষকে একভাবে এই ঘাটের মাধ্যমে বন্দি করে রাখা হয়েছে। স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা প্রকৃত স্বাধীনতা পাইনি। ঘাট ইজারাদারদের কাছে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। চরের মানুষ ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে, ইজারাদার ছাড়া পারাপার ব্যবস্থা চালানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন কোনো ঘাট চাই না, যেটা চরের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়। এই বিষয় নিয়ে আমরা বারবার আন্দোলন করেছি। আমরা চাই খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিল হোক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠির মাধ্যমে আমরা বলতে চাই, চরের একজন মানুষও এই ঘাটের ইজারা চায় না। এই খোলা চিঠির মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই।

এ বিষয়ে চর আষাড়িয়াদহ ৯নং  ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই বলেন, আমরা ঘাট বাতিলের জন্য এ অঞ্চলের মানুষ বারবার আন্দোলন করে আসছে। আমি চাই এই ঘাট বাতিল হক। তাহলে চরের মানুষ মুক্তি পাবে। আমরা এই ঘাট বাতিলের দাবিতে মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠিয়েছি।  চরের মানুষের স্বার্থে এই ঘাট স্থায়ী বাতিল করা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *